, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
চরভদ্রাসনে বিনষ্ট যোগ্য ২৫৬ টি দলিল ধ্বংস করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন চরভদ্রাসনে প্রতিবন্ধী অটোচালক ইব্রাহীমের জীবনে অন্ধকার — সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা প্রার্থনা চরভদ্রাসনে জন্মাষ্টমীতে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন স্পেন বিএনপি নেতা ইউনুস প্রামানিক চরভদ্রাসনে যুবলীগ নেতা দিপু খালাসী ১দিনের রিমান্ডে চরভদ্রাসনে সরকারী রাস্তার ইট বেচে দিলেন প্রভাবশালী চরভদ্রাসনে বাদামের সিঙ্গারা খেতে ভীষণ সুস্বাদ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার মতবিনিময় সভায় সদরপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত  চরভদ্রাসনে চরহাজীগঞ্জ বাজারে প্রশাসন মাইকিং করার পরও উচ্ছেদ হয়নি অবৈধ স্থাপনা চরভদ্রাসনে শ্রমিক দলের আয়োজনে সিনিয়র সহসভাপতি মরহুম আজিজুল ইসলাম বাবু মোল্লার স্মরণে এক দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বালুদস্যুদের কবলে সদরপুর নদীর ভাঙনরোধ ও কৃষি জমি বাঁচাতে-ইউএনও’র চিঠি

সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ নদী বিধৌত অঞ্চল নিয়ে যে উপজেলার অবস্থান। ৯টি ইউনিয়ন থাকলেও তার মধ্যে চরনাছিরপুর,চরমানাইর,আকোটেরচর,নারিকেল বাড়ীয়া ৫টি ইউনিয়ন নদীগুলোর দখলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাদের জীবন। প্রতি বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভাঙনরোধের জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প দিয়ে নদীশাসন করা হলেও এলাকার বালুমাটি দস্যুদের কারনে ওই প্রকল্প রয়েছে এখন চরম ঝুকিতে। বালুমাটি লুটের জন্য উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভেকু দিয়ে অবাধে নদ নদী পাড়ের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা, ভিটা ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে সরবরাহ  করে আসছে বালুমাটি লুটেরা। ওইসব বালু-মাটিবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতিতে বেশ কয়েক জনের প্রানহানির ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি ছাত্র জনতারা ওই বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তারা দাবী করেন অচিরেই যেনো এসব লুটপাট বন্ধ হয়। যতি না পারে তাহলে ছাত্রজনতারা ওই দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিজেরাই মাঠে নামবেন বলে হুশিয়ারী দেন ওই প্রতিবাদ সভায়। এরপর নড়েচড়ে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান করেও বালুকাটা বন্ধ করতে গেলে বেরিয়ে আসে স্থানীয় ওই সব ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে অবাধে নদ নদী থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনা। বেশ কয়েকটা অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় বালুমাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা। বালুমাটি বাহী ট্রাক চলাচলের সময়সীমা আরোপ করে জনস্বার্থে একপত্রাদেশ জারি করেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা।
ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাত ১০টার পর সদরপুর উপজেলায় কোন ধরনের  বালু বা মাটির ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গত ২০ শে মার্চ জারিকৃত চিঠির পর থেকে প্রতিনিয়ত রাত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাঙ্গত, সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর, শয়তানখালী,দুর্বারটেক,আকোটকলা বাগান,শৌলডুবী,মোল্যা কান্দিসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পদ্মা-আড়িয়াল খা নদ নদীর পাড় ঘেষে অবৈধভাবে মাটি খননযন্ত্র ভেকু ও ড্রেজারস্থাপন করে অবাধে বালুমাটি লুট করে নেয় বালু দস্যুরা। এদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা ও সহকারি কমিশনার ভূমি রুবানা তানজিন একাধিক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে বালু লুটের মহোৎসবে। পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ নদী পাড়ের বাসিন্দারা ও ওই অঞ্চলের কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তাদের বসতি ও কৃষি জমির বুক থেকে টপ সয়েল মাটি রক্ষার্থে দ্বারস্থ হন। একদিকে ফসলি জমির বুক কেটে নেওয়া অন্যদিকে নদীর পাড় থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ভাঙন দেখা দেয়। এ ঘটনায় সরেজমিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন ইউএনও জাকিয়া সুলতানা।
বালুমাটি কাটা বন্ধে চিঠি জারি করার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান আদালতের কারনে বালু দস্যুরা ওই সব অঞ্চল থেকে ভেকু,ড্রেজার সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নদ পারের একাধিক বাসিন্দাদের দাবী, বালু দস্যুরা অনেক শক্তিশালী। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে থাকতে পারি না। ইউএনও আমাদের নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা ও কৃষি জমি থেকে কৃষি পন্য উৎপাদনের জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছেন এটি যেনো বজায় থাকে। তার ও উদ্যোগ কে ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবারের সদস্য তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা জানান, যে ভাবে বালুমাটি কাটা হচ্ছে এতে পদ্মা নদীর অনেক ভাঙন দেখা দিবে। এছাড়াও ওই অঞ্চলের মানুষের কৃষি জমি ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবৈধভাবে বালুমাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। আদেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
জনপ্রিয়

চরভদ্রাসনে বিনষ্ট যোগ্য ২৫৬ টি দলিল ধ্বংস করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন

বালুদস্যুদের কবলে সদরপুর নদীর ভাঙনরোধ ও কৃষি জমি বাঁচাতে-ইউএনও’র চিঠি

প্রকাশের সময় : ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
সদরপুর উপজেলার পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ নদী বিধৌত অঞ্চল নিয়ে যে উপজেলার অবস্থান। ৯টি ইউনিয়ন থাকলেও তার মধ্যে চরনাছিরপুর,চরমানাইর,আকোটেরচর,নারিকেল বাড়ীয়া ৫টি ইউনিয়ন নদীগুলোর দখলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে পাল্লা দিয়ে চলে ওই অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দাদের জীবন। প্রতি বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে ভাঙনরোধের জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প দিয়ে নদীশাসন করা হলেও এলাকার বালুমাটি দস্যুদের কারনে ওই প্রকল্প রয়েছে এখন চরম ঝুকিতে। বালুমাটি লুটের জন্য উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভেকু দিয়ে অবাধে নদ নদী পাড়ের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ড্রাম ট্রাক দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটা, ভিটা ভরাটসহ বিভিন্ন কাজে সরবরাহ  করে আসছে বালুমাটি লুটেরা। ওইসব বালু-মাটিবাহী ট্রাকের বেপরোয়া গতিতে বেশ কয়েক জনের প্রানহানির ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি ছাত্র জনতারা ওই বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। তারা দাবী করেন অচিরেই যেনো এসব লুটপাট বন্ধ হয়। যতি না পারে তাহলে ছাত্রজনতারা ওই দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিজেরাই মাঠে নামবেন বলে হুশিয়ারী দেন ওই প্রতিবাদ সভায়। এরপর নড়েচড়ে স্থানীয় প্রশাসন বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান করেও বালুকাটা বন্ধ করতে গেলে বেরিয়ে আসে স্থানীয় ওই সব ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে অবাধে নদ নদী থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনা। বেশ কয়েকটা অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় বালুমাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা। বালুমাটি বাহী ট্রাক চলাচলের সময়সীমা আরোপ করে জনস্বার্থে একপত্রাদেশ জারি করেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা।
ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, রাত ১০টার পর সদরপুর উপজেলায় কোন ধরনের  বালু বা মাটির ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গত ২০ শে মার্চ জারিকৃত চিঠির পর থেকে প্রতিনিয়ত রাত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাঙ্গত, সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর, শয়তানখালী,দুর্বারটেক,আকোটকলা বাগান,শৌলডুবী,মোল্যা কান্দিসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পদ্মা-আড়িয়াল খা নদ নদীর পাড় ঘেষে অবৈধভাবে মাটি খননযন্ত্র ভেকু ও ড্রেজারস্থাপন করে অবাধে বালুমাটি লুট করে নেয় বালু দস্যুরা। এদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা ও সহকারি কমিশনার ভূমি রুবানা তানজিন একাধিক ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেও তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে বালু লুটের মহোৎসবে। পদ্মা-আড়িয়াল খাঁ নদ নদী পাড়ের বাসিন্দারা ও ওই অঞ্চলের কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তাদের বসতি ও কৃষি জমির বুক থেকে টপ সয়েল মাটি রক্ষার্থে দ্বারস্থ হন। একদিকে ফসলি জমির বুক কেটে নেওয়া অন্যদিকে নদীর পাড় থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর ভাঙন দেখা দেয়। এ ঘটনায় সরেজমিন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন ইউএনও জাকিয়া সুলতানা।
বালুমাটি কাটা বন্ধে চিঠি জারি করার সাথে সাথে ভ্রাম্যমান আদালতের কারনে বালু দস্যুরা ওই সব অঞ্চল থেকে ভেকু,ড্রেজার সরিয়ে অন্যত্র নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নদ পারের একাধিক বাসিন্দাদের দাবী, বালু দস্যুরা অনেক শক্তিশালী। আমরা তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে থাকতে পারি না। ইউএনও আমাদের নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা ও কৃষি জমি থেকে কৃষি পন্য উৎপাদনের জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছেন এটি যেনো বজায় থাকে। তার ও উদ্যোগ কে ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবারের সদস্য তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন কে ধন্যবাদ জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া সুলতানা জানান, যে ভাবে বালুমাটি কাটা হচ্ছে এতে পদ্মা নদীর অনেক ভাঙন দেখা দিবে। এছাড়াও ওই অঞ্চলের মানুষের কৃষি জমি ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবৈধভাবে বালুমাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে। আদেশ অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।